ফুটবলের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর মধ্যে ব্যালন ডি’অরকে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছর বিশ্বের সেরা ফুটবলার বাছাইয়ের এই পুরস্কার ঘিরে খেলোয়াড়, সমর্থক ও বিশ্লেষকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকে।
তবে ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্ধারণে শুধু গোল, অ্যাসিস্ট বা দলীয় শিরোপার হিসাব বিবেচনা করা হয় না। মনোনীত খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট কয়েকটি মানদণ্ডে মূল্যায়ন করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত সাংবাদিকেরা।
ব্যালন ডি’অরের ভোটে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়—খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও প্রভাব, দলের হয়ে সাফল্য ও অর্জন এবং খেলোয়াড়ের সামগ্রিক মান ও ফেয়ার প্লে।
অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দলের সাফল্যে অবদান এবং মাঠে একজন খেলোয়াড়ের আচরণও মূল্যায়নের অংশ।
বিশেষায়িত সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্ধারণ করে। পুরুষ বিভাগের ক্ষেত্রে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের প্রত্যেকটি থেকে একজন করে সাংবাদিক ভোট দেন। নারী বিভাগে ভোট দেন শীর্ষ ৫০ দেশের একজন করে প্রতিনিধি।
প্রত্যেক ভোটার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সেরা ১০ খেলোয়াড়কে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন।
প্রথম স্থানের খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে ১২, তৃতীয় স্থানে ১০, চতুর্থ স্থানে ৮ এবং পঞ্চম স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ৭ পয়েন্ট। ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানের জন্য যথাক্রমে ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট দেওয়া হয়।
সব জুরির দেওয়া পয়েন্ট যোগ করার পর যিনি সর্বোচ্চ পয়েন্ট পান, তিনিই ব্যালন ডি’অর জয় করেন।
দুই বা একাধিক খেলোয়াড়ের মোট পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে দেখা হয় কে বেশি প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন। অর্থাৎ ১৫ পয়েন্টের ভোটসংখ্যাই প্রথম টাইব্রেকার।
সেখানেও সমতা থাকলে দ্বিতীয় স্থানের ভোটের সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে এরপর তৃতীয়, চতুর্থ এবং পরবর্তী অবস্থানের ভোট পর্যায়ক্রমে হিসাব করা হয়।
ফলে ব্যালন ডি’অরের ফল শুধু গোল বা শিরোপার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় অর্জন, মান ও ফেয়ার প্লের সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত সাংবাদিকদের ভোটে নির্ধারিত হয় ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের বিজয়ী।





