হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি অভিযানে একদিনে ১৩ দশমিক ৮৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা কাস্টমস ও কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করে। এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি রানওয়েতে সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাদের জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।

প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি, যার বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।

বিমানকর্মীদের জুতার ভেতরে স্বর্ণবার লুকিয়ে চোরাচালানের বিষয়টি সামনে আসার পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দারা। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না এবং থাকলে এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

অন্যদিকে, রোববার দিবাগত রাতে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টমস হাউস।

আটক যাত্রীর নাম মি. ইয়াং ডন সিউ। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রমের সময় তাকে আলাদাভাবে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার শরীরে বিশেষ কৌশলে বহন করা স্বর্ণবারের সন্ধান পাওয়া যায়।

রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে তার শরীর থেকে নয়টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। স্বর্ণবারগুলো কালো কাপড়ের বেল্টে মোড়ানো অবস্থায় শার্টের নিচে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

ওই যাত্রী কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি এবং স্বর্ণের বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা দলিলও দেখাতে পারেননি।

দুটি ঘটনায়ই ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।