ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে জামালপুরের বকশীগঞ্জের নিখোঁজ শিশু সাফিকে (১০) নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (লিডো)।
বুধবার সকালে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান পরিচয় যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে অসহায় অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে লিডো এর ট্রানজিশনাল শেল্টার সেতুবন্ধন এ আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ঝালরচর পূর্বপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী সাফি। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারে উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এ ঘটনায় শিশুটির নিখোঁজের খবর স্থানীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে শিশুটিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে অসহায় অবস্থায় পাওয়া গেলে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে সেতুবন্ধন ট্রানজিশনাল শেল্টারে আশ্রয় দেওয়া হয়। সেখানে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার পরিচয় ও পরিবারের খোঁজ করা হয়।
শিশু সাফি জানায়, তার ফুফুর কথা মনে পড়ায় কাউকে কিছু না জানিয়ে বকশীগঞ্জ থেকে ট্রেনে করে ঢাকায় ফুফুর বাড়ি উত্তরায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সে। কিন্তু পথ হারিয়ে একপর্যায়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে চলে আসে।
দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিশুটির বাবা। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সন্তানের ফিরে আসাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় স্বস্তি ও আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
শাফির বাবা আনারুল বলেন, ছেলেটা যখন হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে গেল, তখন আমাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল। কোথায় আছে,কেমন আছে, কী অবস্থায় আছে কিছুই জানতাম না। প্রথমে আশপাশের সব জায়গায় খুঁজেছি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েছি, পরিচিতদের কাছে ফোন করেছি। যেখানে যেখানে সাফি যেতে পারে বলে মনে হয়েছে, সেখানেই খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি।





