রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল নতুন এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সময়ের আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।

প্রসিকিউশন জানায়, বুধবার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির নির্ধারিত দিন ছিল। তবে আসামিপক্ষ সময় চাইলে এবং প্রসিকিউশন আপত্তি না করায় ট্রাইব্যুনাল আগামী ১ নভেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামি হলেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা। তারা বুধবার ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন সাবেক ও তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে না পাওয়ার কথা জানিয়ে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) জমা দেন।

১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল।

এরও আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং গ্রেফতার আসামিদের হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা এবং দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।