যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। ড. ইউনূসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে হতবাক হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন সোহেল তাজ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, যারা অতীতে গুম, খুন, গণহত্যা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারাই এখন নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে সোহেল তাজ লেখেন, ‘এটাই হচ্ছে সাবেক স্বৈরাচার পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট, এই ট্যাবলেট খেয়ে এদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ধরনের আচরণ ব্যাখ্যা করতে মনোবিজ্ঞানের দুটি ধারণার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘গ্যাসলাইটিং’ ও ‘সাইকোলজিক্যাল প্রজেকশন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।
গ্যাসলাইটিং বলতে এমন একধরনের মানসিক প্রভাব বিস্তারের প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়, যেখানে কাউকে পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া বা ঘটে যাওয়া ঘটনা অস্বীকার করার মাধ্যমে নিজের স্মৃতি, উপলব্ধি ও বিচারবুদ্ধি নিয়ে সন্দেহে ফেলা হয়।
অন্যদিকে সাইকোলজিক্যাল প্রজেকশন হলো এমন একটি মানসিক আত্মরক্ষামূলক প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তি নিজের অগ্রহণযোগ্য চিন্তা, অনুভূতি, উদ্দেশ্য কিংবা নিরাপত্তাহীনতা অন্যের ওপর আরোপ করেন।
সোহেল তাজের বক্তব্যে এসব ধারণা ব্যবহার করে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আচরণের সমালোচনা করা হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে স্লোগান ও কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের লবিতে হুইলচেয়ারে থাকা ড. ইউনূসের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে যান। এ সময় তারা বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার উদ্দেশে প্রশ্ন করতে থাকেন।
একপর্যায়ে কয়েকজনকে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ (আপনি এখানে কেন এসেছেন) বলে চিৎকার করতে শোনা যায়।
প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তিদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নেতাকর্মী ও সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিস্থিতির মধ্যে ড. ইউনূসের সহযোগীরা তাকে নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যান।
এ ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া দেন সোহেল তাজ।
"এটাই স্বৈরাচার পলাতক হাসিনার জাদুর ট্যাবলেট"-ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সোহেল তাজ
বাংলাদেশ২৪৭ নিউজ ডেস্ক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬
৬ দিন আগে
শেয়ার করুন:

জাতীয়
মতামত(0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন
সংবাদে মতামত প্রকাশ করতে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন (Registration) অথবা লগইন করুন।




