জামালপুরের বকশীগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভধারণের ঘটনায় করা মামলার পর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আসামিপক্ষের লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও এক শিক্ষকের কাছ থেকেও তারা চাপ ও ভয়ভীতি পাচ্ছেন। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
থানা এজাহার, পুলিশ প্রতিবেদন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বগারচর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের দিনমজুর মো. মানিক মিয়ার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে গোপালপুর কো-অপারেটিভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছর তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। গত ২ জানুয়ারি রাতে বাড়িতে একা থাকার সুযোগে মো. রোমান মিয়া ওরফে রশিদ (৩০) ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে চলে যান। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে বকশীগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা পরীক্ষায় তিনি গর্ভবতী বলে নিশ্চিত হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মানিক মিয়া বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (সংশোধনী/২০২০) ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা করেন। মামলায় রোমান মিয়া ও রাব্বি হাসান (২০) নামের দুজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
মামলার বাদী মানিক মিয়া অভিযোগ করেন, মামলা করার পর থেকেই আসামিপক্ষের লোকজন এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাঁর দাবি, মামলা প্রত্যাহার না করলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মানিক মিয়া জানান, এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বকশীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৫জিস্ট, তাং-১৯/০৯/২০২৬) করেছেন।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, মামলা দায়ের ও আসামিদের গ্রেপ্তারের পর থেকেই মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোপালপুর কো-অপারেটিভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সেলিম মিয়া (৫০) মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিপক্ষের লোকজন বাড়ির সামনে এসে মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক মো. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দিইনি বা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করিনি।’
অভিযুক্ত শিক্ষকের বড় ভাই ও গোপালপুর কো-অপারেটিভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম ফারুকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে এবং এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে সন্তান প্রসবের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তার প্রসবকালীন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, পুষ্টিকর খাবার, যাতায়াত ও হাসপাতালে ভর্তির ব্যয় বহন করা দিনমজুর পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি কিশোরী মা ও অনাগত সন্তানের চিকিৎসা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বকশীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভধারণ: মামলা তুলে নিতে হুমকি
জেলা প্রতিনিধি
৫ অক্টোবর, ২০২৬
২ সপ্তাহ আগে
শেয়ার করুন:

সারাদেশ
বিষয়:ধর্ষণ
মতামত(0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন
সংবাদে মতামত প্রকাশ করতে অনুগ্রহ করে নিবন্ধন (Registration) অথবা লগইন করুন।




