আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

১১ আগস্ট বিএনপির মিডিয়া সেল ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন।

তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় সেগুলো কার জন্য নেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

ইসি সূত্রের ভাষ্য, একই প্রার্থীর জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একটি মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকলে বিকল্পটি বিবেচনার সুযোগ রাখতেই এ ব্যবস্থা।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত বিএনপিও প্রার্থী দিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বর্তমান ৩৪৯ সদস্যের সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন এমপি রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য ৯০ জন। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনসহ স্বতন্ত্র আটজন এবং ইসলামী আন্দোলন, বিজেপি, গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় পেতে প্রয়োজন ১৭৫ ভোট। সেই হিসাবে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী দেওয়াকে গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্বচ্ছতা থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়টি এর আগে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেয় স্থায়ী কমিটি। ১ আগস্ট গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওই বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে স্থায়ী কমিটি।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে নিজের নাম নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল এর আগে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং প্রার্থী নির্ধারণের সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

একাধিক প্রার্থী থাকলে দীর্ঘ বিরতির পর এবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৯১ সালে বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস ও আওয়ামী লীগের বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।