তিতাস গ্যাসের সংযোগ থাকলেও অনেক বাসাবাড়িতে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নার কাজে কয়েক বছর ধরে এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। তবে এলপিজির দামও ঘন ঘন বাড়ায় বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু সেখানেও ভোগান্তি কমছে না-বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি বেড়েছে লোডশেডিংয়ের সমস্যাও।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অনেক পরিবার প্রতিদিন এমন জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য রান্নার ব্যবস্থা করা একটি বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন গৃহিণী বলেন, “এলপিজির দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। তখন ইলেকট্রিক চুলা নিলাম। কিন্তু এখন আবার কারেন্ট চলে যায়। আবার বিদ্যুতের বিলও ইদানীং প্রচুর আসে।”

আরেকজন গৃহিণী বলেন, “বাচ্চারা বলল আম্মু এটা করে দাও, ওটা করে দাও। সম্ভব হয় না।”

জানা গেছে, ২০১৩ সালের পর থেকে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তিতাস গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বৈধ গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ। এর বাইরে অনেক পরিবারকে এলপিজি, বৈদ্যুতিক চুলাসহ বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

দেশে বর্তমানে কত সংখ্যক বৈদ্যুতিক চুলা বা ইনডাকশন ব্যবহার হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন কোম্পানি জানিয়েছে, এসব চুলার চাহিদা বাড়ছে।

বিদ্যুৎ খাতের গবেষকদের মতে, ১০ লাখ ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, এক মিলিয়ন নতুন ইলেকট্রিক কুক স্টোভ ব্যবহারে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হবে। লাখ লাখ মানুষ ইলেকট্রিক কুক স্টোভ ব্যবহার শুরু করলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। এ কারণে রান্নার জ্বালানি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রয়োজন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গবেষক ও অর্থনীতিবিদ গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য উৎস বাড়ানো এবং গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উত্তোলনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য থাকা গ্যাস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে এলএনজি আমদানিতে অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বঙ্গোপসাগর ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার পাশাপাশি বাপেক্সের ৪৮টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় ও ছোট বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করা এবং বাসাবাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন।