ইরানের আধাসামরিক ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাবশালী নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদির নিহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বাহিদিকে ঘিরে বেশ কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দাবি প্রকাশিত হয়েছে।
বাহিদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের কঠোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে মনে করা হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি এমন একটি ছোট প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সদস্য, যারা সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এ প্রেক্ষাপটে তাকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অযাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে সাম্প্রতিক এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় বাহিদি নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।
এছাড়া স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তাও প্রকাশ্যে এ দাবি নিশ্চিত করেননি।
এর আগেও বাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। নতুন দাবিগুলো মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি অ্যাকাউন্ট এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী ভাষ্যকারদের কাছ থেকে এসেছে।
আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বাহিদি। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ বাহিদি এবং আইআরজিসির ভেতরে তার ঘনিষ্ঠ বলয় ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহিদির ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিরোধিতায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলবিরোধী কড়া বক্তব্য ও হুমকির সঙ্গেও বাহিদির নাম এসেছে। সমালোচকদের মতে, এসব বক্তব্য আইআরজিসির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন।
সামরিক বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাহিদির মৃত্যুর খবর সত্য হলে তা ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
আইআরজিসি ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক, গোয়েন্দা ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডে এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় ইরানের সামরিক নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি ও মিত্রদের অভিযানের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর মতো দাবি সরকার বা স্বাধীন সূত্র নিশ্চিত করার আগেই অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন