ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোরকে ঘিরে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন বিতর্কিত দাবি ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে।
শিলিগুড়ি করিডোর প্রায় ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর পশ্চিমে নেপাল, দক্ষিণে বাংলাদেশ এবং উত্তরে ভুটান ও চীন সীমান্ত রয়েছে। ফলে করিডোরটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
এরই মধ্যে “রংপুর বিভাগ ভারতের দখল চাই”-এমন মন্তব্য করার অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) গণপূর্ত ক্যাডারের ৪৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা প্রতীশ দেবনাথ। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ফেসবুকে করা ওই মন্তব্যের পর থেকে তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতীশ দেবনাথ বর্তমানে বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী বলেও প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি খুলনায়।
সম্প্রতি মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে সামনে আনেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের শিক্ষাবিদ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ভারত কার্নাডের বক্তব্য তুলে ধরেন। তার দাবি অনুযায়ী, রংপুর বিভাগকে ভারতের অংশ করার বিষয়ে কার্নাড দুটি পথের কথা বলেছেন-একটি হলো অঞ্চলটি কিনে নেওয়া, অন্যটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা। পাশাপাশি ধর্মীয় ভিত্তিতে জনগোষ্ঠী বিনিময়ের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য স্বরাজ্য ম্যাগাজিনে প্রকাশিত জয়দ্বীপ মজুমদারের একটি লেখার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, ওই লেখায় বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগকে ঘিরে হিন্দুদের জন্য আলাদা হোমল্যান্ড তৈরির প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ওই আলোচনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে আন্দোলন গড়ে তোলা, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা এবং জনসংখ্যা বিনিময়ের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম আলাদা করার মতো পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রংপুরের পলাশবাড়িতে গড়ে ওঠা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের প্রসঙ্গও তুলেছেন ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য। মন্দিরটিতে বিশাল আকৃতির রামমূর্তি , কৃষ্ণমূর্তিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই মূর্তি উদ্ভোদন করতে বিভিন্ন সময় রংপুর আসেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার। গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায় , এই মন্দির প্রতিষ্ঠায় খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা । এই মন্দির প্রতিষ্ঠায় নাম এসেছে হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস নামের এক ব্যাক্তির ,যিনি পেশায় নিজেকে ব্যাবসায়ী দাবি করলেও এর আগে প্রতারণার মামলায় গিয়েছেন জেলে। এছাড়া শৈশবে ভারতে গিয়ে দীর্ঘসময় পাড় করেছেন তিনি। সয়ং প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রতরণা করে গ্রেফতার হয়েছেন র্যাবের কাছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে এধরণের বিশাল ব্যায়ের ক্ষেত্রে তার অর্থনৈতিক উৎস।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন