দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বর্তমানে বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প না থাকলেও সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও ৫ হাজার টাকা ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক জানতে চান, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার কোনো প্রকল্প আছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরেকটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন।
ঋণের পাশাপাশি স্টার্টআপ খাতে ইক্যুইটি সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারত্বে ‘বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামে একটি ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোগগুলো এই কোম্পানি থেকে ইক্যুইটি সহায়তা নিতে পারবে।
উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিষয়েও সংসদে তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রামের (এসআইসিআইপি) আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পিআইইউ-এসআইসিআইপি পরিচালিত অন্টাপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রশিক্ষণের জন্য উদ্যোক্তাদের কোনো ফি দিতে হয় না। বরং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলে ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!
আপনার মতামত দিন