প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 9, 2026 ইং
'গাজায় নিহত দুই লাখ ছাড়াতে পারে' জেনেভা একাডেমির প্রতিবেদন

গাজায় চলমান সংঘাতে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জেনেভা একাডেমি অব ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস। এক প্রতিবেদনে শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদপত্রিকা ইয়েনি সাফাক।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা সম্ভাব্যভাবে দুই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে- যা ঘোষিত প্রায় ৭০ হাজার মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।
জেনেভা একাডেমির প্রধান স্টুয়ার্ট কেসি-ম্যাসলেন বলেন, ''২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজার জনসংখ্যা ১০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ার তথ্য বিপুল প্রাণহানির ইঙ্গিত দেয়। ''তার মতে, এ ধরনের পতন নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বড় মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিফলন হতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে কেসি-ম্যাসলেন বলেন, বড় ধরনের লড়াই কিছুটা কমলেও গাজায় মানুষের দুর্ভোগ থামেনি। খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসহ জরুরি মানবিক সহায়তা দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন। আহতদের চিকিৎসার অভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা সাধারণত উদ্ধার হওয়া মরদেহের ওপর নির্ভর করে; ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের হিসাব এতে ধরা পড়ে না। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনসংখ্যা হ্রাসের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত প্রাণহানির মাত্রা ঘোষিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। তবে এসব পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কেসি-ম্যাসলেন জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ''গাজায় সংঘটিত ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।'' তার মতে, এই সহিংসতার শেকড় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগেই তৈরি হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গাজার অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ অধিক মাত্রার, যা পুনর্গঠনে বহু বছর ও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন, তবে অবৈধ হত্যাকাণ্ডের বিচার একদিন হবে- এমন আশাও ব্যক্ত করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭