প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 15, 2026 ইং
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় শিশুসহ নিহত ২, আহত শতাধিক

জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশুসহ অন্তত দুজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জনপদজুড়ে।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় শুক্রবার বিকেলে সহিংসতায় বিএনপিকর্মীর ১২ বছর বয়সী ছেলে ইমনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ইমন স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকায় পৃথক ঘটনায় বিএনপির তিন কর্মী আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে মো. জসিম নায়েব (৩৫) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যাচাই করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নির্বাচনে পরাজয়ের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পটুয়াখালীর বাউফল ও গলাচিপা, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী ও নাজিরপুর, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা, মারধর, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১০২ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। একাধিক এলাকায় বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জামায়াতকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর ও ঝালকাঠির রাজাপুরে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অধিকাংশ এলাকায় যৌথ বাহিনী টহল জোরদার করেছে। কোথাও অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নির্বাচন-পরবর্তী এই সহিংসতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭