প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 15, 2026 ইং
রমজানে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত করতে পারে ইসরায়েল: শেখ একরিমা সাবরি

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে মুসল্লিদের আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায়ে প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট ইসলামি আলেম শেখ একরিমা সাবরি।
তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ সাবরি বলেন, রমজানকে সামনে রেখে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার আরও সংকুচিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল।
তিনি বলেন, জানুয়ারির শুরুতে পূর্ব জেরুজালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেদের নিয়োগের মধ্য দিয়েই ইসরায়েলের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই নিয়োগকে কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির-এর আল-আকসা কেন্দ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও উসকে দিতে বেন-গভির সচেষ্ট ভূমিকা রাখছেন।
শেখ একরিমা সাবরি বলেন, ‘মুসলমানরা রমজানকে স্বাগত জানায় আশাবাদ ও ইবাদতের প্রস্তুতির মাধ্যমে। কিন্তু জেরুজালেমের ক্ষেত্রে আমরা দুঃখের সঙ্গে দেখছি—দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসায় আসা মুসল্লিদের ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।’
তিনি জানান, ইতিমধ্যে কয়েক ডজন তরুণকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য রমজানে কোনো শিথিলতা থাকবে না। এর ফলে আগের বছরের তুলনায় আল-আকসায় মুসল্লির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।
প্রতিবছর রমজানে পশ্চিম তীর থেকে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সামরিক চেকপোস্টে কড়াকড়ি আরোপ করায় জেরুজালেমে প্রবেশ কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। গত দুই বছরে খুব অল্পসংখ্যক ফিলিস্তিনি বিশেষ অনুমতিপত্র পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি রমজান উপলক্ষে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণা করেনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব জেরুজালেমের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দার বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যার বড় অংশ তরুণ। এসব আদেশ অনুযায়ী রমজান মাসে তাদের আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে, কিছু নিষেধাজ্ঞা ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার আল-আকসা প্রাঙ্গণের দীর্ঘদিনের ‘স্থিতাবস্থা’ পরিবর্তনের অভিযোগে ফিলিস্তিনি পক্ষের সমালোচনার মুখে রয়েছে।
শেখ সাবরি বলেন, ‘ডানপন্থী সরকার বহু বছর ধরে আল-আকসা মসজিদে সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যা একসময় গোপন আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা এখন প্রকাশ্য দাবিতে রূপ নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি দমননীতি শুধু আল-আকসা মসজিদেই সীমাবদ্ধ নয়; পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি পাড়াগুলোতে বাড়িঘর ভাঙার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এসব পদক্ষেপকে তিনি বর্ণবাদী, অবৈধ ও অমানবিক বলে আখ্যায়িত করেন।
শেষে শেখ একরিমা সাবরি আরব ও ইসলামি বিশ্বের জনগণ এবং নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদের সুরক্ষায় তাদের নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭