প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 17, 2026 ইং
জেনিভায় পারমাণবিক আলোচনা শুরু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পারমাণবিক বিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে জেনিভায় পরোক্ষ বৈঠকে বসছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
রয়টার্স লিখেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ঘিরে ওয়াশিংটনের ব্যাপক যুদ্ধ প্রস্তুতির মধ্যে আপসের তেমন স্পষ্ট ইঙ্গিত ছাড়াই মঙ্গলবার দুপক্ষ এ বৈঠকে বসছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় হতে যাওয়া দ্বিতীয় পর্বের এ বৈঠকে মার্কিন পক্ষে অংশ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ ইউটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছে। আর ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
তেহরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলা বিরোধ নিরসনে ওমানের মধ্যস্থতায় ওমানে ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিশ্বাস, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়। ইরান সত্যিই পারমাণবিক শক্তি হয়ে উঠলে তা ইসরায়েলের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলতে পারে।
ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে নিবেদিত। তবে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে আর বোমা বানানোর জন্য যে পরিমাণ প্রয়োজন তার কাছাকাছি রয়েছে।
গত বছর জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তখন ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক বোমাবর্ষণ অভিযান চালায়, এতে দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর এক পর্যায়ে তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা দিয়ে হামলা চালায়। এবার সে ধরনের সম্ভাবনা এড়াতে তেহরান অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর থেকে তেহরান বলে আসছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
অবশ্য তারপর থেকে ইরানের ইসলামপন্থি শাসকরা দেশব্যাপী ব্যাপক প্রতিবাদ ও জনবিক্ষোভের কারণে অনেকটা দুর্বল হয়েছে। ইরানের ওপর আরোপ করে রাখা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল রপ্তানি থেকে দেশটির আয় কমে গেছে আর এটি জীবনযাত্রার ব্যয় সঙ্কট তৈরি করেছে। এই মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদেই দেশটির জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছিল। শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমন করা সম্ভব হলেও কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশের জলসীমায় ব্যাপক নৌ-শক্তির সমাবেশ ঘটিয়েছে। পাশপাশি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম বাড়িয়ে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়েছে।
ওয়াশিংটন আলোচনার সূচিতে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের পাশাপাশি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীও অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তেহরান শুধু তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ন্ত্রণ ও এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে পুরোপুরি সরে আসবে না আর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়েও কোনো আলোচনা করবে না।
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭