
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন শান্তিপূর্ণ ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ করতে রাজধানীসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বহুস্তর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
শহীদ মিনারে ত্রিস্তরের নিরাপত্তা
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও শহীদ মিনারের আশপাশের সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
পুরো এলাকাকে কয়েকশ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এসব ক্যামেরা বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু নিয়ে মূল বেদিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য জনসমাগমে দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
ড্রোন নজরদারি ও বিশেষ বাহিনীর প্রস্তুতি
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানিয়েছে, প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি এবার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ড্রোন মোতায়েন করে ভিড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
র্যাবের কমান্ডো টিম ও বিশেষ ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে শহীদ মিনার এলাকা ও আশপাশে একাধিকবার তল্লাশি কার্যক্রম (সুইপিং) পরিচালনা করেছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও বিশেষায়িত ফোর্সকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এবং র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে সার্বিক প্রস্তুতির সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
ট্রাফিক নির্দেশনা ও চলাচলে বিধিনিষেধ
শ্রদ্ধা জানাতে আগতদের জন্য নির্ধারিত রুট ম্যাপ প্রকাশ করা হয়েছে। পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করে জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে শহীদ মিনারের মূল ফটকে পৌঁছাতে হবে। বের হওয়ার পথ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে দোয়েল চত্বর ও চানখাঁরপুল এলাকা।
২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৭টার মধ্যে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসায় ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সাইবার স্পেসেও নজরদারি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রাজপথের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অমর একুশেকে কেন্দ্র করে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে কেউ যেন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ সব বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়েও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ শহীদ মিনারগুলোর পাশে ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকির তথ্য নেই। তবু শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে।