প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 21, 2026 ইং
একুশের চেতনায় গণতন্ত্র সুসংহত করার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এই চেতনাকে ধারণ করেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া বাণীতে তিনি মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের এদিন মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগ তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তি ও স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না; এটি বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিতকে সুদৃঢ় করেছে। একুশের চেতনার ধারাবাহিকতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা জাতির আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন। মাতৃভাষার প্রতি ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বব্যাপী ভাষার মর্যাদা ও সংরক্ষণের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভাষা শহীদ, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বাণীতে বিশ্বজুড়ে ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সফলতা কামনা এবং সব ভাষা শহীদের মাগফেরাত কামনার মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর বাণী শেষ করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭