প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 21, 2026 ইং
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে, শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ ভাষা শহীদদের

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। রাত ১২টা এক মিনিটে প্রহর গোনার সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহিদ মিনারের বেদি। সাদা-কালো পোশাকে, হাতে ফুল নিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেও শহিদ মিনার এলাকায় ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। প্রাঙ্গণে বারবার ধ্বনিত হয়েছে চিরচেনা সেই গান—‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…।’ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর গর্বে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা নাজমুল হোসেন (৩৪) পেশায় একজন কনসালটেন্ট। তিন বছর বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে শহিদ মিনারে এসে তিনি বলেন, বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারার পেছনে ভাষা শহিদদের অবদান চিরস্মরণীয়। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি প্রতি বছরই আসেন। এবার প্রথমবারের মতো ছেলেকে সঙ্গে এনেছেন, যেন ছোটবেলা থেকেই সে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারে।
শুধু বাঙালিরাই নন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশি-বিদেশি নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে বেড়াতে আসা জর্জ বলেন, বাংলাদেশে ভাষা দিবস অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়। তিনি ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য সম্পর্কে জেনেছেন এবং ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
টাঙ্গাইল থেকে আসা আদিবাসী তরুণ তপু চিরাং জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তাদের কাছেও গৌরবের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বন্ধু মিলে তারা শহিদ মিনারে ফুল দিতে এসেছেন। তার ভাষায়, প্রতিটি জাতির নিজস্ব ভাষা রয়েছে, যা তাদের পরিচয়, গৌরব ও সম্মানের প্রতীক। নিজেদের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাদের এই উপস্থিতি।
এর আগে, শুক্রবার রাত ১২টা এক মিনিটে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের স্মরণে দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও আশপাশের এলাকা ছিল শোক, শ্রদ্ধা ও চেতনার আবহে মুখর।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭