প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 22, 2026 ইং
আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান : নিহত ১৭

আফগানিস্তানের সীমান্তঘেঁষা দুটি প্রদেশে পাকিস্তানি তালেবানের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান । এতে ১৭ জন নিহতসহ বহু আহত হয়েছেন। ইসলামাবাদে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলাসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও সেনা সদস্যদের প্রাণহানির জেরে আফগানিস্তানে এই বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।
রবিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সাতটি "সন্ত্রাসী শিবির ও আস্তানা, যা পাকিস্তানি তালেবানের "ফিতনা আল খাওয়ারিজ" এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠী "ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ-(আইএসকেপি)-এর অন্তর্ভুক্ত।
'ফিতনা আল খাওয়ারিজ' শব্দটি রাষ্ট্র নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সন্ত্রাসীদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-যার মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের ইমাম বারগাহে হামলা, বাজাউর ও বান্নুতে একটি করে হামলা এবং পবিত্র রমজান মাসে বান্নুতে আরেকটি ঘটনা-বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গত সোমবার বাজাউরে আত্মঘাতী হামলায় ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। তার আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতীয় হামলায় ৩১ জন নিহত হন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "পাকিস্তানের কাছে চূড়ান্ত প্রমাণ রয়েছে যে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও হ্যান্ডলারদের নির্দেশে খাওয়ারিজরা পরিচালনা করেছে।
এসব হামলার দায় স্বীকারও করেছে আফগানিস্তানভিত্তিক ফিতনা আল খাওয়ারিজ (এফএকে)-এর অন্তর্ভুক্ত পাকিস্তানি তালেবান ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী, এবং ইসলামিক স্টেট অব খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)।"
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, 'গোয়েন্দাদের মারফত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ এই অভিযান' পরিচালনা করেছে সামরিক বাহিনী।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ দেওয়া এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়েছে, স্বশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো যাতে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব হামলা না করে সেজন্য উপযোগী পদক্ষেপ নিতে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে তালেবান সরকারকে।
কিন্তু এ বিষয়ে কোনো 'বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ' নিতে ব্যর্থ হয়েছে কাবুল সরকার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, 'এই অঞ্চলে শান্তি স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবসময়ই পাকিস্তান চেষ্টা করে আসছে। এরমধ্যে পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টিতে তারা অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।'
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে আফগানিস্তানের কয়েকটি সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, রবিবার সীমান্তঘেঁষা দুটি প্রদেশে হামলা করা হয়। এরমধ্যে পাকতিকা প্রদেশের একটি ধর্মীয় স্কুলে এবং ননগরহার প্রদেশে বিমান হামলা চালানো হয়।
হামলায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর তথ্য আল-জাজিরাকে জানিয়েছে স্থানীয় আফগান সূত্র। এছাড়া আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭