
মহান আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও সক্ষম মুমিনের ওপর পবিত্র রমজান মাসে ফরজ রোজা রাখাকে আবশ্যক করেছেন। বিনা ওজরে যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালন করে না, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ে বলে ইসলামী শরিয়তে উল্লেখ রয়েছে।
রমজান মাসে রোজাদারকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। তবে শুধু না খাওয়ার নামই রোজা নয়; রোজা অবস্থায় কিছু নিয়ম ও বিধিনিষেধ মেনে চলাও জরুরি। এসব নিয়ম লঙ্ঘিত হলে রোজা ভেঙে যেতে পারে বা মাকরুহ হয়ে যেতে পারে।
যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়
ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা কিংবা মুখভর্তি বমি গিলে ফেলা
মেয়েদের মাসিক বা সন্তান প্রসবের পর নিফাস শুরু হলে
ইসলাম ত্যাগ করলে
গ্লুকোজ, শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন গ্রহণ করলে
প্রস্রাব বা পায়খানার পথে কোনো ওষুধ বা বস্তু শরীরে প্রবেশ করালে
রোজাদারকে জোর করে কিছু খাওয়ানো হলে
ইফতারের সময় হয়েছে মনে করে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে
রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে
ভুলবশত কিছু খেয়ে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছাকৃতভাবে আবার খেলে
বৃষ্টির পানি মুখে পড়ে তা গিলে ফেললে
কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে
দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলা পরিমাণ কোনো কিছু বের করে গিলে ফেললে
অল্প বমি মুখে এসে ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললে
রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজু করার সময় কুলি বা নাকে পানি দেওয়ার ফলে ভেতরে পানি চলে গেলে
যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়
ইফতারের সময় হারাম খাবার গ্রহণ করলে
অপ্রয়োজনে কিছু চিবাতে থাকলে
খাওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়াই মুখে কিছু ধরে রাখলে
অতিরিক্ত গড়গড়া করা বা নাকের গভীরে পানি টানলে
ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় মুখে থুতু জমিয়ে রেখে পরে গিলে ফেললে
সারা দিন নাপাক অবস্থায় থাকা
রোজা অবস্থায় পেস্ট, পাউডার বা মাজন দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা
মুখে গুল ব্যবহার করা (থুতুর সঙ্গে গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে)
রোজা রেখে গীবত বা পরনিন্দা করা
মিথ্যা বলা
ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া
যৌন উদ্দীপক দৃশ্য দেখা বা কথা শোনা
নাচ, গান বা সিনেমায় মগ্ন থাকা
রান্নার সময় খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করা (প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে বৈধ)
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজার মূল উদ্দেশ্য আত্মসংযম, তাকওয়া ও চরিত্র শুদ্ধতা অর্জন। তাই রোজা পালনকালে শারীরিক সংযমের পাশাপাশি মানসিক ও নৈতিক শুদ্ধতার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।