প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 25, 2026 ইং
দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার থেকে কলম বিরতি, গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা

তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার, বদলি বাতিলসহ বিভিন্ন দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে গভর্নরের পদত্যাগের দাবিতে প্রতীকী কলম বিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর-এর কথিত স্বৈরাচারী আচরণের প্রতিবাদে সংস্থাটির ৩০ তলা ভবনের নিচে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে সকাল ১১টায় আয়োজিত এ সভা থেকে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ বলেন, গভর্নরের নেওয়া একাধিক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়ার আগেই বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমাদের শোকজ নোটিশ ও বদলি প্রত্যাহারসহ অন্যান্য ন্যায্য দাবি আজকের মধ্যেই বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। দাবি মানা না হলে আগামীকাল থেকে প্রতীকী কলম বিরতিতে যাবো। রোববার সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, কিন্তু পেয়েছি স্বৈরশাসন। এই পরিস্থিতিতে আমরা থাকতে চাই না।” তিনি দাবি করেন, ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে বারবার গভর্নরের কাছে গেলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি; বরং দমন–নিপীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। গভর্নরের উপদেষ্টা ও পরামর্শক থাকলেও অর্থনীতির জন্য কার্যকর কোনো নীতি গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন শাহরিয়ার সিদ্দিকী।
এ সময় তিনি শোকজ ও বদলি প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দাবি মানা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউর ডেপুটি হেড মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, গত সাত-আট মাস ধরে ন্যায্য দাবি নিয়ে গভর্নরের কাছে ধর্না দেওয়া হলেও কোনো সমাধান আসেনি। “আজ বাধ্য হয়েই আমরা প্রতিবাদ সভায় নেমেছি। আমরা আশা করি, গভর্নর আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন,” বলেন তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭