
শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প–সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ জ্ঞান–বিজ্ঞানের সব শাখায় দেশকে এগিয়ে নিতে নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা আমরা প্রত্যাশা করি।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একুশে পদক প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন, “একুশে পদক শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা নয়; এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ দেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা ও গবেষণায় অবদান রাখা গুণীজনদের সমাজের সামনে তুলে ধরার এক অনন্য উদ্যোগ।”
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে একুশে পদক প্রদান শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্তত ১২টি ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক অর্জন।
জ্ঞান–বিজ্ঞান ও শিল্প–সাহিত্য চর্চার ধারাকে আরও বিকশিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতিচর্চা জোরদারে রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।”
জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। এটি একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, অন্যদিকে জালেমের বিরুদ্ধে অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তাই ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় অনুধাবনের মাস—আমাদের শেকড় সন্ধানী মাস।”
প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের গুণী কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও ভাষাসংগ্রামীদের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুণীজনদের কর্মময় জীবনের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা, স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে আমরা ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছি। অমর একুশের ভাষাশহীদদের স্মরণে প্রবর্তিত আজকের এই অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষাসংগ্রামীদের স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদের শহিদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন।”
এ বছর একুশে পদকে ভূষিত সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের সৃজনমুখর জীবন আরও দীর্ঘ ও কল্যাণময় হোক—আল্লাহর দরবারে সেই প্রার্থনা করছি।”
অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গনে উজ্জ্বলভাবে আলো ছড়াবে।