প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 26, 2026 ইং
ব্যবসা সহজীকরণে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের কার্যকর উপায় সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছে জমা দিতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর পরিচালনা পর্ষদকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। সাক্ষাৎ শেষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি ও উত্তরণে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে রয়েছে। তিনি জানান, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা এখনো অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে পড়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ সময় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বকেয়া নগদ সহায়তা দ্রুত ছাড়, প্রণোদনা ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ ও গতিশীল করা এবং বর্তমান ত্রৈমাসিক ব্যবস্থার পরিবর্তে আবেদন জমার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থ ছাড়ের দাবি জানানো হয়।
ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল (নন-পারফর্মিং লোন) সূচক ঠিক রাখতে গিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না। ফলে কারখানা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ঋণ পরিশোধও বাধাগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহের মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তাব দেন তারা।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজীকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো জরুরি। এ জন্য কাস্টমস, বন্দর ও অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস দেন। তিনি পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের সর্বাত্মক নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭