প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং
৫ রানে জিতেও সেমিফাইনালে যেতে পারল না পাকিস্তান, নেট রানরেটে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড

ম্যাচের শুরুতে একপেশে লড়াইয়ের আভাস মিললেও ধীরে ধীরে পাল্লা সমান হয়ে যায়, এরপর ঝুঁকে পড়ে পাকিস্তানের দিকে। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ রানের জয় পেলেও সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দল শ্রীলংকার জন্য ম্যাচটি ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, তাদের সুপার এইট পর্বের হতাশাজনক অভিযানেরই যেন প্রতিচ্ছবি। তবুও অধিনায়ক দাসুন শানাকার ৩১ বলে অপরাজিত ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ম্যাচে নাটকীয়তা এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত নেট রানরেটে এগিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে নিউজিল্যান্ড।
পাকিস্তান ২১২ রান তোলার পর সেমিফাইনালে উঠতে হলে শ্রীলংকাকে থামাতে হতো ১৪৭ রানের মধ্যে। শ্রীলংকার শুরুটা ছিল চাপে ভরা। পাথুম নিশাঙ্কা নাসিম শাহর ডেলিভারি ভুল বুঝে ক্যাচ দেন, এরপর আবরার আহমেদের প্রথম বলেই বোল্ড হন কামিল মিশারা। পাওয়ারপ্লে শেষে শ্রীলংকা চাপে থাকলেও আসালাঙ্কার একটি ছক্কা ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায়।
চাপ সামলাতে পাকিস্তান আগেভাগেই উসমান তারিককে আক্রমণে আনে। আসালাঙ্কা তার ওভারে ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকালেও পরের ওভারেই আবরার আহমেদ তাকে বোল্ড করে তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। এরপর পাভান রথনায়েকে ধারাবাহিক বাউন্ডারিতে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেন। রথনায়েকে ও জানিথ লিয়ানাগে আউট হওয়ার পর শানাকা ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন। রথনায়েকে ফিফটি পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীলংকা ১৪৮ রানে পৌঁছে যায়—যাতেই ভেঙে যায় পাকিস্তানের সেমিফাইনাল স্বপ্ন।
শেষ চার ওভারে দরকার ছিল ৬২ রান, শেষ দুই ওভারে ৪৬। অসম্ভব মনে হলেও শানাকা শাদাব খানের ওভারে টানা দুটি ছক্কা মারেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। শাহিন শাহ আফ্রিদির ওভারে একটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে গ্যালারিতে রোমাঞ্চ ছড়ান শানাকা। তবে রিভার্স-র্যাম্প খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। শেষ বলটি ওয়াইডের কাছাকাছি হলেও আম্পায়ার বৈধ ঘোষণা করলে হতাশায় ভাঙে শ্রীলংকা শিবির। শেষ পর্যন্ত ৫ রানে হারে দলটি।
এর আগে টসে জিতে শ্রীলংকা ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তান একাদশে বড় পরিবর্তন এনে সাইম আইয়ুব ও বাবর আজমকে বাদ দেওয়া হয়। ওপেনিংয়ে নেমে ফখর জামান ঝড় তোলেন। সাহিবজাদা ফারহান দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে পাওয়ারপ্লেতেই দলকে ৫০ ছাড়িয়ে নেন। একপর্যায়ে তিনি এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ভেঙে দেন।
ফখর ও ফারহান দুজনেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন, তাদের জুটি পৌঁছে যায় ১৭৬ রানে—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। ফখর বোল্ড হলে জুটি ভাঙে, পরে ফারহান টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় শতক তুলে নেন। শেষ দুই ওভারে পাকিস্তান ৫ উইকেট হারালেও দিলশান মাদুশাঙ্কার নিয়ন্ত্রিত বোলিং পাকিস্তানের বড় ব্যবধান গড়ার আশা কমিয়ে দেয়—যার মাশুল গুনতে হয় শেষ পর্যন্ত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮
(সাহিবজাদা ফারহান ১০০, ফখর জামান ৮৪; দিলশান মাদুশাঙ্কা ৩/৩৩)
শ্রীলংকা: ২০ ওভারে ২০৭/৬
(দাসুন শানাকা ৭৬, পাভান রথনায়েকে ৫৮; আবরার আহমেদ ৩/২৩)
ফলাফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী, তবে নেট রানরেটে এগিয়ে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭