প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলা, যুদ্ধে জড়াল যুক্তরাজ্যও

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আকস্মিক সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, সাবেক এক প্রেসিডেন্টসহ দেশটির বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর প্রধান ও শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, নির্ধারিত সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, এই সামরিক অভিযান পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।
ইরানে হামলা শুরুর পর রোববার একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ইসরায়েলের চাপেই ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রকাশ্যে ইরানে হামলার বিরোধিতা করলেও গোপনে সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রকে এই অভিযানে উৎসাহ দিচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ফ্রান্স জানায়, খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে তারা প্রস্তুত।
বিবৃতিতে তিন দেশের নেতারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের নির্বিচার ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে তারা জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর মধ্যেই লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকেরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭