প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 5, 2026 ইং
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের আহ্বান টিআইবির

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নিয়োগ পাওয়া গভর্নরের বিরুদ্ধে জোরালো স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন। নতুন সরকারের কাছে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন গভর্নরের নিয়োগের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নজরদারি সংস্থা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই নেতৃত্বের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে দেওয়া আগামী পাঁচ বছরের জন্য কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
সংবাদ সম্মেলনে নতুন গভর্নর নিয়োগ এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলমের দেশে ফেরার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তবে সেটি আরও গুরুতর বিষয়। সে ক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি অতীতে লুটপাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবারও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে।
এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন পদে জোরপূর্বক রদবদলের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এবার আমাদের পালা’ ধরনের সংস্কৃতি প্রতিহত করতে না পারলে তা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। সরকারের একটি ভুল পদক্ষেপ প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের কিছু পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে আশা সৃষ্টি করলেও কিছু সিদ্ধান্ত উদ্বেগও তৈরি করেছে। মন্ত্রীর চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বক্তব্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এবং দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ—এসব বিষয় সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭