প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 7, 2026 ইং
স্ত্রীর আত্মহত্যার পর আত্মগোপনে জাহের আলভী, ফেসবুকে বিস্ফোরক অভিযোগ

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন অভিনেতা জাহের আলভী। এ ঘটনার পর আত্মগোপনে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি, যেখানে সদ্যপ্রয়াত স্ত্রীকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন এবং তদন্তে কিছু বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে আলভী বাসার সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত জীবন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তিনি এটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, আইনের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি সব ধরনের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে নেবেন। তবে যদি তাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়, সে ক্ষেত্রে কিছু তথ্য জনসমক্ষে রেখে যেতে চান, যাতে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যম বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার দাবি জানাতে পারেন।
সিসিটিভি ফুটেজের প্রসঙ্গে জাহের আলভী দাবি করেন, তার বাসার ড্রয়িং-কাম-ডাইনিং এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার অ্যাক্সেস তার কাছে ছিল না; সেটি ইকরার ফোনে সংযুক্ত ছিল। তিনি জানান, বর্তমানে ওই ফোনটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, ওই সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার আগে ও পরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
শুটিংয়ের কাজে নেপালে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বাসা থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং তাদের উপস্থিতি ও গতিবিধি সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই সময় তাদের মধ্যে ধূমপান ও মদ্যপানের ঘটনাও ঘটেছে।
ফরেনসিক তদন্ত প্রসঙ্গে আলভী বলেন, ইকরার মোবাইল ফোন থেকে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন যেন মুছে ফেলা না হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ইকরার অতীত জীবন নিয়ে কিছু অভিযোগও উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা, ত্যাগ এবং নানা ধরনের টানাপোড়েন ছিল। সবকিছুর পরও তারা দুজন একে অপরকে ভালোবাসতেন বলে দাবি করেন অভিনেতা।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে চাপ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা জটিলতার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একই সঙ্গে নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান।
এদিকে এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭