প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 7, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জ্বালানি পণ্যের আমদানি মূল্য দ্রুত পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চলতি মার্চ মাসে স্পট মার্কেট থেকে কমপক্ষে চার কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এ মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না।
সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিস্তৃত হওয়ার পর ৩ মার্চ জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। ওই সময় জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকা এবং কাতার এনার্জির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানায়, ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি মাসে দুই কার্গো এলএনজি সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও দুই কার্গো সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি। তবে দেশের পুরো মাসের চাহিদা মেটাতে অন্তত আট কার্গো এলএনজি প্রয়োজন।
জ্বালানি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পেট্রোবাংলা দ্রুত দুই কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য স্পট মার্কেটে টেন্ডার আহ্বান করবে। পরবর্তীতে আরও দুই কার্গোর জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৬০০ থেকে ২৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ৯০০ থেকে ৯৮০ এমএমসিএফডি গ্যাস আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এ চাহিদা পূরণে বছরে প্রায় ১১০ থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ কার্গো আসে কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়, বাকি অংশ সংগ্রহ করা হয় স্পট মার্কেট থেকে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে দুই লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া, চীন ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভারত থেকে আসা জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার টন ডিজেল, ২১ হাজার ৭০৫ টন পেট্রোল এবং ৩৪ হাজার ১৩৩ টন অকটেন মজুত রয়েছে। এছাড়া পদ্মা অয়েলের কাছে প্রায় ২০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো জেট ফুয়েল মজুত আছে।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতে এলপিজি সরবরাহ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খোলা এলসির ভিত্তিতে মার্চ মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টন এলপিজি দেশে আসার কথা রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এসব চালান সময়মতো পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতকে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭