প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 8, 2026 ইং
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজ।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে এসব জাহাজ বন্দরে নোঙর করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলো ২৮ ফেব্রুয়ারির আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার আগে পারস্য উপসাগরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১০টি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং ধাপে ধাপে বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো এবং পথে থাকা এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং দুটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। এছাড়া ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য বহন করছে আরও চারটি জাহাজ। সব মিলিয়ে এ ১০টি জাহাজে প্রায় পৌনে চার লাখ টন তেল ও গ্যাস রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের ধারণা।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এই সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রণালির পাশের দেশ ওমান থেকেও ওমান উপসাগরীয় পথের পরিবহন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে জাহাজগুলো বাংলাদেশে পৌঁছে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় গত শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর সীমা নির্ধারণ করেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭