প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 9, 2026 ইং
কমনওয়েলথ বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে অনুষ্ঠিত ২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে (সিএফএএমএম) বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক (সিএইচওজিএম)-এর সম্ভাব্য এজেন্ডা ও নীতিগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত মানদণ্ডের অবক্ষয় এবং নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক সম্প্রদায় যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি গর্বিত। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসন ও প্রগতিশীল নীতির মাধ্যমে কমনওয়েলথের মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমনওয়েলথ সচিবালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা নির্বাচনের সময় একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল। ওই দল সারা দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রশংসা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে তিনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো অস্তিত্বগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিকেলের অধিবেশনে তিনি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। নতুন করে রোহিঙ্গা আগমন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের টেকসই সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান।
বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট ইভেট কুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭