প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 9, 2026 ইং
‘শুধু ফয়সালকে বলির পাঁঠা বানানো হলে তা ন্যায়বিচার হবে না’ - হাদির বোন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেছেন, শুধু প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে শাস্তি দিলেই প্রকৃত বিচার নিশ্চিত হবে না; হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা পুরো চক্রকে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।
সোমবার ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার বাড়িতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুমা হাদি বলেন, “পুরো গ্যাং যেন সামনে আসে এবং জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হয়। শুধু ফয়সাল যেন বলির পাঁঠা না হয়। ফয়সালের ফাঁসি দিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।”
তিনি আরও বলেন, ফয়সাল গ্রেপ্তার হওয়ায় পরিবার কিছুটা আশাবাদী হলেও এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় তারা। তার ভাষ্য, “ফয়সাল একজন শুটার। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এতে আমরা কিছুটা আশাবাদী যে তার বিচার হবে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারা জড়িত, কে নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে জেল থেকে জামিনে বের করতে সহায়তা করেছে—এসব বিষয়ও তদন্তে বের করা প্রয়োজন।”
হাদি হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করে। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে চলা আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন শরীফ ওসমান হাদি। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা এক আততায়ী তাকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। মামলার বাদী নারাজি দিলে আদালত মামলাটি নতুন করে তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়।
মাসুমা হাদি বলেন, ফয়সাল ও আলমগীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭