প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 14, 2026 ইং
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আগামীকালের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি ১১ দলের

জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আগামীকালের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে ২৮ মার্চ শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করে তা ঘোষণা করার কথাও জানানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে হাঙ্গামা কম হলেও জনআকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি—এটি ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও এ বিষয়ে আংশিক স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন না ঘটলেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তারা নির্বাচন মেনে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। একই দিনে দুটি ভোট, ফলাফল প্রকাশ এবং গেজেট প্রকাশ করা হলেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দুটি অধিবেশন আহ্বান করার কথা থাকলেও একটি ডাকা হয়েছে, অন্যটি হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংস্কার কমিশনের শপথ নেননি। অথচ গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বাস্তবে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
সংস্কার কমিশনের অধিবেশন না ডাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারকে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়, আর সেই সময়সীমা আগামীকাল শেষ হচ্ছে। অবিলম্বে অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নিলে সরকার ও সংসদ নেতাকে এর দায় নিতে হবে। আগামীকালের মধ্যে অধিবেশন না ডাকলে ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও সরকারের প্রতি সহযোগিতার মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। তবে সরকার সঠিক ভূমিকা পালন না করলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প থাকবে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ৬ সিটিতে প্রশাসক নিয়োগেরও প্রতিবাদ জানানো হয়। নেতারা অভিযোগ করেন, এতে নতুন করে একধরনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া প্রশাসনে ঢালাও দলীয়করণ, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের পরিবর্তন এবং দক্ষ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তারা জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চান। ডেপুটি স্পিকারের নাম প্রস্তাবের বিষয়ে সরকার পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হলেও তারা স্পষ্ট করে বলেছেন—প্রথমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে উদার ও আন্তরিক হতে হবে।
ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭