প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 16, 2026 ইং
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ নেই: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো নজির গত সাত দিনে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, যাত্রী আকৃষ্ট করতে অনেক পরিবহন মালিক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নিচ্ছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পরিবহন মালিকরা অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নিচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, সরকারি ভাড়া ৭০০ টাকা হলে কেউ ৬০০ টাকা, আবার কেউ ৬৮০ টাকা নিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রম করেছে- এমন কোনো নজির আমি গত সাত দিনে পাইনি। আমি নিশ্চিত, এটি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নয়। হয়তো আগে নেওয়া ভাড়ার চেয়ে ১০০ টাকা বেশি।’
টার্মিনালের বাইরে বাস পার্কিং নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, যাত্রী ও বাসের চাপের তুলনায় পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ কারণে পর্যায়ক্রমে বাস ঢোকানো হচ্ছে-একটি বাস ছেড়ে গেলে আরেকটি বাস ঢুকছে। এতে কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এ কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভলান্টিয়ার, বিআরটিএ এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। টার্মিনালে মোবাইল কোর্ট, ভিজিল্যান্স টিম এবং পুলিশের কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রয়েছে। কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবস্থাপনাগত কিছু বিষয় থাকতে পারে, তবে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ছে না এবং পরিবহনে প্রয়োজনীয় সরবরাহ বজায় রাখা হবে।
তবে এ সময় মন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে চারপাশ থেকে ‘পাচ্ছে না’ বলে উচ্চস্বরে প্রতিক্রিয়া শোনা যায়। জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোথাও তেল না পাওয়ার সুযোগ নেই, এমন কোনো তথ্য থাকলে তা তাকে জানাতে হবে। ‘তেল দেওয়ার দায়িত্ব আমার’-বলেন তিনি।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং সরকার তা নিরুৎসাহিত করছে। গ্যারেজে গ্যারেজে গিয়ে এ বিষয়ে সতর্কতাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বাস চলাচল করছে এবং যাত্রীরা নিয়মিতভাবে টিকিট কেটে গন্তব্যে যেতে পারছেন। সরকারি অফিস ছুটির পর বিকেল বা সন্ধ্যায় যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার আশা, এবার যাত্রীরা বাস, ট্রেন ও লঞ্চস্টেশন থেকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ ঈদযাত্রা উপভোগ করতে পারবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭