প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 16, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 16, 2026 ইং
এই কালি তো উঠছে না, পরবর্তী ভোটে ধরা খাওয়ার ভয় হচ্ছে : সিইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালির মান নিয়ে নিজের মজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট দেওয়ার কয়েকদিন পরও আঙুলের কালি না ওঠায় তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “কালি তো উঠছেই না। ভয় হচ্ছে, সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই কালি নিয়ে ভোট দিতে গেলে আবার ধরা খাই কি না!”
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি জানান, নির্বাচনের পর তার এক সাবেক সহকর্মী ফেসবুকে তাকে উদ্দেশ করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে লেখা ছিল, “মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আপনি কি কালি লাগিয়েছেন? এই কালি তো উঠছে না।”
এ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি নিজেও খেয়াল করেছেন যে তার হাতের কালি এখনো রয়ে গেছে। সরবরাহকারী কীভাবে এত টেকসই কালি তৈরি করেছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে ভালো মানের কালি ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত ভোটের কালি কিছুটা ঘষলেই উঠে যায়, কিন্তু এবারকার কালি ছিল ব্যতিক্রমধর্মীভাবে দীর্ঘস্থায়ী।
তিনি আরও দাবি করেন, কালির মান যেমন ভালো ছিল, তেমনি নির্বাচনও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষ্য, তিনি শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু কেউ অভিযোগ করেননি যে তারা ভোট দিতে পারেননি। বিশেষ করে নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছ থেকেও তিনি জানতে চেয়েছেন, ভোট দিতে কোনো বাধা এসেছে কি না। জবাবে সবাই জানিয়েছেন, তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সিইসি আবারও ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের সবাই বাংলাদেশি, তাই এখানে বিভাজনের চেয়ে সমঅধিকারের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সবাই সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭