প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 24, 2026 ইং
জ্বালানি তেলে ঘাটতি নেই, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা: কঠোর বার্তা সরকারের

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই; বরং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিস্বার্থে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মজুত পরিস্থিতি ও সরকারি আশ্বাস
সরকারি সূত্র জানায়, দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, তেল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে তেল কিনেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে এবং নিয়মিত নতুন তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ আরও প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান মজুত দিয়েই নতুন সরবরাহ ছাড়াই ২০ থেকে ২২ দিনের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ সম্ভব। এর সঙ্গে পাইপলাইনে থাকা নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারি ও অসাধু চক্র
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিষয়ে তথ্য পেয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু অসাধু পেট্রোল পাম্প মালিক তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চোরাই বাজারে সরবরাহ করছে। আবার পরিবহন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা অবৈধভাবে বিক্রি করছে। এর ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে।
সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি
সরকার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অসাধু চক্রকে গোয়েন্দা নজরদারিতে এনেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের প্রতি আহ্বান
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত না করা এবং যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। যেকোনো কারসাজি বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭