প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 1, 2026 ইং
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির ফ্ল্যাট দখলকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী-সন্তানদের মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বাদীপক্ষের আবেদনের পর এ আদেশ দেন ,এমনটাই মামলার পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।
পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিরা হলেন- সামির কাদের চৌধুরী, শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমান। বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল জানান, ধার্য তারিখে ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজিরা দেন। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সংসদ অধিবেশনের কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে অপর চার আসামি চট্টগ্রামে অবস্থানের কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির হননি।
বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার নিরাপত্তারক্ষীর অনুপস্থিতির বিষয়ে তারা আপত্তি না তুললেও অন্য চার আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। পরে আদালত ওই চারজনের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম এ মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। গুলশান মডেল টাউনের একটি ছয়তলা ভবন ঘিরে বিরোধের জেরে এ মামলা হয়। একই ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলের নামসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেই মামলা দায়েরের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০০৬ সালে আরেফিন সামসুল আলমের সঙ্গে ভবন নির্মাণের চুক্তি করেন মাইনুল ইসলাম ও ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি। ২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা ভবনটি বুঝে পান। ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মাইনুল ইসলামের মৃত্যুর পর থেকে বাড়িটির একটি ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা চলে এবং জাল দলিল তৈরি করে দ্বিতীয় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়। এই পটভূমিও আগের সংবাদ প্রতিবেদনে এসেছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ১৪ জুলাই তারা বাড়িতে প্রবেশ করে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে দখলচেষ্টা চালান, ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ফারজানা আন্না ইসলামকে হুমকি দেন। পরে ২৮ আগস্ট আবারও বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই হামলায় বাসার লোকজন আহত হন এবং নগদ ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি ৫ কোটি টাকা না দিলে ফ্ল্যাট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। চলে যাওয়ার সময় গ্যারেজে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭