প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 2, 2026 ইং
শিশু টিকাদান অবনতিতে জরুরি পদক্ষেপ দাবি ওয়াইডব্লিউডিআরসির

বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে সাম্প্রতিক অবনতি, বিপুলসংখ্যক শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির প্রতিবাদে সভা করেছে ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট (ওয়াইডব্লিউডিআরসি)। সভা থেকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি সরকারের গাফিলতির কারণে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। টিকা সরবরাহে বিঘ্ন, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার সীমিত পৌঁছানোর ফলে প্রায় ৪ লাখ শিশু পূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার শিশু একটিও টিকা পায়নি।
বক্তারা বলেন, এরই মধ্যে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরুত্থান ঘটছে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তারা জানান, টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে প্রতিবছর প্রায় ৯৪ হাজার শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সাফল্য হুমকির মুখে পড়েছে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়াইডব্লিউডিআরসির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান সুলতানা নুসরাত আফরোজ। তিনি বলেন, “টিকাদান কার্যক্রমে এ ধরনের ভাঙন ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশু মৃত্যুর হার বহুগুণ বেড়ে যাবে। জাতীয় বাজেটে মা ও শিশুস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।”
নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভিন বলেন, শতভাগ শিশুর সব টিকা নিশ্চিত করতে হবে। পিপলস হেলথ মুভমেন্টের নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, শিশুস্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক বলেন, জন্মের পর থেকে প্রতিটি শিশুর সব টিকা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সরকারকেই এ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি শাহেদা ওয়াহাব বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা হক বলেন, শিশুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষাও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সিলিডের সদস্য সেলিনা আক্তার বলেন, ইপিআই কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করতে হবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, শহরের বস্তি, দুর্গম এলাকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এসব এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
প্রতিবাদ সভা থেকে সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো - জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত বাজেট বৃদ্ধি ও টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা, বস্তি-দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা, টিকা সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকা বিষয়ে ভুল ধারণা দূর করতে কার্যকর প্রচারণা চালানো, এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে টিকাদান কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা।
সভা থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের শিশুদের জীবন রক্ষা এবং একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭