প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 5, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, তেলের দামে আসতে পারে নতুন সিদ্ধান্ত: আমির খসরু

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন হুমকির মুখে পড়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি আমদানির প্রধান উৎস ওই অঞ্চল হওয়ায় যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার উচ্চমূল্যে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ চেইন সচল রেখেছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে উচ্চমূল্যে তেল ও গ্যাস আমদানি কতদিন এভাবে চালানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে তেলের দামের বিষয়ে শিগগিরই নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
শুক্রবার বিকেলে কেইপিজেড ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়তে পারে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি কেনার ফলে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ বেড়েছে। এ চাপ সামাল দিতে সরকার কঠোর সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৩০ শতাংশ জ্বালানি তেল রেশনিং করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি তহবিল সুরক্ষা এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানির মূল্য নিয়ে শিগগিরই একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বৈশ্বিক তেলের সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকাসহ পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। দেশের অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার থেকে সাধারণ মানুষ-সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ব্যাংকঋণনির্ভর বিনিয়োগের তুলনায় পুঁজিনির্ভর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭