প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 8, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 8, 2026 ইং
নিজেকেই বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি আমিনুলেন, চাইলেন আইসিসির হস্তক্ষেপ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। একই সঙ্গে বোর্ড পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
তবে এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ও ‘আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত অ্যাডহক কমিটিকে তিনি ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনএসসি বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পরপরই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, ৫ এপ্রিল প্রকাশিত এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদন আইনগতভাবে টেকসই নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ।
আমিনুল জানান, ওই নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৫টি ক্লাব ও তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে ওঠা আপত্তি ২০২৫ সালের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।
এনএসসির তদন্তকে এখতিয়ারবহির্ভূত দাবি করে আমিনুল বলেন, আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত থাকতে হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে হওয়া এ তদন্তকে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও মন্তব্য করেন।
নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি গঠনকে ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন বিসিবির সাবেক এই সভাপতি। তার দাবি, এ কমিটির কোনো বৈধতা নেই এবং তারা এর কর্তৃত্ব স্বীকার করেন না।
বিবৃতির শেষে আমিনুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, সরকারের এ হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এতে বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিসিকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান আমিনুল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হাইকোর্টের রায় না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে তিনিই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭