প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 9, 2026 ইং
আপত্তির মুখেও মানবাধিকার কমিশন বিল পাস

বিরোধী দলের আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলটি উত্থাপনের বিষয়ে আপত্তি জানান এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে তার আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। বিলটি পাস হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারিকৃত সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের পথ তৈরি হলো।
আপত্তি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইন গত ১৭ বছরে কার্যকর ও নিরপেক্ষ কোনো কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারেনি; বরং এটি বিরোধী দল ও মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তার অভিযোগ, এই কমিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি সরকারের প্রভাবমুক্ত কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, কমিশনের নিয়োগ কাঠামো এমনভাবে গঠিত, যেখানে সরকার-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রাধান্য থাকে। ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকারি বাহিনী বা সংস্থার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতীতে বিভিন্ন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর তদন্তে কমিশনের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে হাসনাত বলেন, জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয়ে দুই বা চার মিনিট সময় যথেষ্ট নয়। পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও আলোচনার জন্য আরও সময় দেওয়ার দাবি জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, অতীতেও এ ধরনের বিষয়ে সীমিত সময় দেওয়া হয়েছে, তবে পরে হাসনাতকে অতিরিক্ত আরও দুই মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সময়, প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ায় আজ অনেকে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তার দাবি, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ল্যাপস হওয়ার ফলে শুধু মানবাধিকার কমিশন নয়, গুম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দায়মুক্তি-সংক্রান্ত আরও দুটি অধ্যাদেশও কার্যত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
তার ভাষ্য, ভবিষ্যতে কোনো সরকার এই আইনি কাঠামোকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না—এমন নিশ্চয়তা নেই। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এমন আইন পাস করা সম্ভব হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জাতির জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭