প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 9, 2026 ইং
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ বাবা-মায়ের

জুলাই আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফরপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তারা এ অসন্তোষ জানান।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে মাত্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা যথেষ্ট নয়। তার ভাষ্য, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া তার ছেলেকে গলা টিপে ধরেছিল, কিন্তু সে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়নি। আরও অনেকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, এ মামলায় অনেক বড় অপরাধীকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তার দাবি, পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগমও রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে বলেন, আরও বেশি আসামির ফাঁসি হলে তারা খুশি হতেন। তার ভাষ্য, তার ছেলে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং এ রায়ে পরিবার সন্তুষ্ট নয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।
রায়ে পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তারা দুজনই বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও কয়েকজনকে ১০ বছর, ৫ বছর ও ৩ বছর মেয়াদে বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিনজন হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।
এছাড়া বেরোবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বেল্টু, গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল আসাদ এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও কয়েকজনকে ৫ বছর ও ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের ক্ষেত্রে হাজতবাসের সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭