প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং
মিনাবের নিহত শিশুদের স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধিদল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাওয়ার পথে ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল সঙ্গে নিয়েছে মিনাবে নিহত শিশুদের স্মৃতিচিহ্ন।
ফ্লাইটের সামনের সারির আসনগুলোতে রাখা হয়েছিল রক্তমাখা স্কুলব্যাগ, জুতা, সাদা ফুল এবং হামলায় নিহত শিশুদের ছবি। এই প্রতীকী আয়োজন যুদ্ধের মানবিক মূল্য সামনে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই ফ্লাইটের একটি ছবি শেয়ার করে কালিবাফ লিখেছেন, “ফ্লাইট মিনাব ১৬৮-তে আমার সঙ্গীরা।” পরে ইরানের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনও এই প্রতীকী বার্তাটি পুনঃপ্রচার করে জানায়, মিনাবের শিশুদের তারা ভুলবে না। ইরানি প্রতিনিধিদলের নামও রাখা হয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’, যা ওই হামলায় নিহত শিশুদের সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। রয়টার্স ও এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন কালিবাফ; দলে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও। এই বৈঠককে ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রত্যক্ষ যোগাযোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিনাব ট্র্যাজেডির প্রসঙ্গে ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যিবেহ স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ শিশু নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হামলার দায় অস্বীকার করলেও পরে রয়টার্স জানায়, মার্কিন সামরিক তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দায়ের দিকেই ইঙ্গিত মিলেছে; তবে তদন্ত তখনও চূড়ান্ত হয়নি। জাতিসংঘ মানবাধিকার ব্যবস্থার পক্ষ থেকেও এ হামলার তদন্তের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
ইরান এই ঘটনাকে কেবল একটি সামরিক ভুল নয়, বরং বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ আঘাত হিসেবে তুলে ধরছে। শান্তি আলোচনার আগে মিনাবের নিহত শিশুদের স্মৃতি সামনে এনে তেহরান মূলত আলোচনার টেবিলে যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নটিকেও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭