প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 12, 2026 ইং
জুলাই আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ ছিল সরকারের নির্দেশে: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল সরকারের নির্দেশে- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এমন জবানবন্দি দিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা। রোববার বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তিনি সাক্ষ্য দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আসামি, সেই মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইমদাদুল। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
জবানবন্দিতে ইমদাদুল হক মোল্লা বলেন, ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ ব্যবস্থায় তাদের প্রতিষ্ঠান ছিল শেষ স্তরে। তাদের ওপরে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ও ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টরিয়াল কেবল (আইটিসি) স্তর রয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার পর আইআইজির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সেখান থেকেই তারা বুঝতে পারেন, সরকারের সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মহাখালীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগার পর বিকেল ৪টা থেকে কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয় এবং রাত ৯টার পর সারা দেশে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২৩ জুলাই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। সে সময় ইন্টারনেট চালুর অনুরোধ জানানো হলে প্রতিমন্ত্রী দ্রুত সেবা চালুর আশ্বাস দেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।
ইমদাদুলের ভাষ্য, পলক সেদিন আগুন লাগার কারণে ডাটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে ইন্টারনেট বন্ধের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, ডাটা সেন্টারে নয়। কিছু ফাইবার অপটিক কেবল পুড়ে গেলেও শুধু এ কারণে সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হওয়ার কথা নয়, কারণ দেশে আরও একাধিক ডাটা সেন্টার ছিল।
জবানবন্দি শেষে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ সাক্ষীকে জেরা করেন। আসামিপক্ষের দাবি, ইন্টারনেট বন্ধ বা সীমিত করার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি; বরং অগ্নিসংযোগ, অবকাঠামোগত ক্ষতি ও কিছু কেবল কেটে যাওয়ার কারণে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সেবায় বিঘ্ন ঘটে থাকতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে ইন্টারনেট স্লো বা সীমিত হওয়ার ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও তিনি যুক্তি উপস্থাপন করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭