
সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে মনোনীত ১৩ নারী সদস্য জাতীয় সংসদে গেলে জাতির প্রত্যাশা পূরণ এবং নারী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নারী প্রার্থীরাও একই ধরনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনীতরা বিরোধী দলের আসনে বসে ন্যায়সংগত ও জনকল্যাণমূলক সব কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবেন। তবে সরকার যদি ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তারা সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রার্থী ও ১১ দলের নেতারা মনোনয়ন ফরম জমা দিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যান। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রার্থীরা একে একে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আগামীকাল এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, যেখানে রাজপথে ভূমিকা রাখার প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে গণরায় উপেক্ষা করে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে, সেখানে ১১ দলের সংসদ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে এক পরিবারের দুজনকে সংসদ সদস্য না করার নীতিগত অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অতীতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের স্ত্রী সংসদ সদস্য থাকলেও এবার কেন নেই-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের নীতিগত সিদ্ধান্তই হলো, এক পরিবারে দুইজন সংসদ সদস্য নয়। সে নীতি অনুসারেই এবার প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখায় দেশ পরিচালনার মতো যোগ্য নারীর কোনো সংকট নেই। আমিরের স্ত্রীর চেয়েও দলের আরও অনেক হেভিওয়েট নারী প্রার্থী রয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, তাদের দায়িত্ব এখন তিনটি- ঘর-সংসার, সংসদ এবং রাজপথ। তিনি বলেন, সংসার সামলানোর পাশাপাশি সংসদে দেশ, জাতি ও বঞ্চিত নারীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তারা সোচ্চার থাকবেন। সংসদে নারীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে রাজপথেও আন্দোলনে নামবেন বলে জানান তিনি।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে তারা আজ এখানে আসার সুযোগ পেয়েছেন। মনোনয়ন দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে গিয়ে তিনি জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পক্ষে কাজ করবেন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করবেন।
তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবকে সত্যিকারভাবে ধারণ করলে দলটি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের মধ্য থেকেও কাউকে মনোনয়ন দিত।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনীত ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে এনসিপি ও জামায়াত তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রমাণ দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনীত প্রার্থীরা হলেন- কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নী, কেন্দ্রীয় প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সিলেট মহানগরীর সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা সাজেদা সামাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম, নারী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ এবং জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা রোকেয়া বেগম।
এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহিলা বিভাগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিমও মনোনয়ন পেয়েছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দসহ অন্যরা।