প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 25, 2026 ইং
বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাসের অভিযোগ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকি ও ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য খালাসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে নিয়মিতভাবে এসব পণ্য খালাস হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, আর সৎ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন অসম প্রতিযোগিতার মুখে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ , ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের পর নির্ধারিত শেডে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হচ্ছে না ।
তাদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু শেডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়ম ভেঙে নিম্ন শুল্কের পণ্যের আড়ালে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাসে সহায়তা করছেন। মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে এসব পণ্য মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই খালাস হয়ে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দর প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও কয়েকজন শেড ইনচার্জের সহযোগিতায় ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য বন্দরে প্রবেশ করছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী শেড ইনচার্জ ইউসুফ হোসেনকে ২০২৫ সালে জামালপুরের কামালপুর স্থলবন্দরে বদলি করা হলেও তিনি এখনো বেনাপোলে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে বন্দর পরিচালক শামীম হোসেনের ক্ষেত্রেও বদলির আদেশ জারির পরও দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব ঘটনা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির অভাবকে সামনে আনছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। গত ১৪ মার্চ ‘ব্রেকিং পাউডার’ নামে নিম্ন শুল্কের পণ্য ঘোষণায় আনা একটি চালানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস ও ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
এর আগে ৯ মার্চ ‘ঘাসের বীজ’ ঘোষণা দেওয়া একটি চালান থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার নিষিদ্ধ পাটবীজ উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির একটি ধারাবাহিক চিত্র।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে কিছু চালান আটক হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে এবং একই ধরনের অনিয়ম বারবার ঘটছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোল বন্দরে স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে সরকার আরও বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাবে এবং বৈধ ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭