প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 26, 2026 ইং
সহমত নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাও চাই: হাসনাত আবদুল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, তারা শুধু সহমত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাও চান।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে কার্টুন শেয়ার করে স্যাটায়ার ও বিরোধী মতকে উৎসাহিত করছেন। কিন্তু এই সংসদ গঠনের পর থেকে মতপ্রকাশের কারণে কয়েকটি ঘটনায় ব্যক্তিদের বাসা থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আগেও ছিল, তবে সেটি ছিল কেবল ‘সহমত’ প্রকাশের স্বাধীনতা। তারা এমন স্বাধীনতা চান, যেখানে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করা যাবে, নির্ভয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা যাবে এবং ভয়ের পরিবেশ থাকবে না।
হাসনাত বলেন, অনেক রক্ত, লড়াই ও ত্যাগের পর এই সংসদ গঠিত হয়েছে। কিন্তু সংসদ আবার পুরোনো দুষ্টচক্রে ফিরে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, বিরোধী মত দমনের নামে মামলার চক্র আবারও ফিরে আসছে।
ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের অপসংস্কৃতি ছিল। শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক রাজনীতিতে ঠেলে দেওয়া হতো। বর্তমানে আবারও সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে অকার্যকর অবস্থায় রাখা হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে এটি শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠন করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সংস্কার কমিশনের অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে অধ্যাদেশটি গ্রহণ করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যেত।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, জনগণের আশা, সময় ও স্বপ্নকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিভাজনের রাজনীতিতে গেলে কোনো রাজনৈতিক দল লাভবান হবে না; বরং যারা জুলাইয়ে পরাজিত হয়েছিল, তারাই লাভবান হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭