
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশে ৪০ লাখের বেশি মামলা চলমান রয়েছে। একদিকে মামলার জট কমানো, অন্যদিকে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা কমানো—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি জোরদার করেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইল বস্তির এরশাদ মাঠে আয়োজিত ‘ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আইনমন্ত্রী বলেন, লিগ্যাল এইড কর্মসূচির মধ্যে মধ্যস্থতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ চাইলে ছোটখাটো মামলার ক্ষেত্রে মামলা চলমান অবস্থায়ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ নিতে পারবেন। এতে একদিকে বিচারপ্রার্থীর পথ সহজ হবে, অন্যদিকে মামলা করার আগেই বিরোধ মীমাংসা করা গেলে নতুন মামলার সংখ্যাও কমবে।
তিনি বলেন, গরিব ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় লিগ্যাল এইড সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। ১৯৯৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করেছেন। চলমান সংসদ অধিবেশনে লিগ্যাল এইড আইন পাস হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে সরকার মানুষকে আইনগত সহায়তা দিতে পৃথক অধিদপ্তর চালু করেছে। মানুষের অধিকার আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই অধিদপ্তর কাজ করবে।
তিনি বলেন, আদালতে যাওয়ার আগে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করতেই লিগ্যাল এইড কর্মসূচিতে নতুনত্ব আনা হয়েছে। যৌতুক মামলা, দেনমোহর, ভরণপোষণ, চেক ডিজঅনারসহ ছোট ছোট মামলা বছরের পর বছর আদালতে চলতে থাকে। এতে বিচারপ্রার্থীরা হয়রানির শিকার হন এবং আদালতে মামলার জট বাড়ে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে যাওয়ার আগে পক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে আইনসম্মতভাবে মীমাংসা করলে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে যে সমাধান হবে, তা আদালতের রায় বা ডিক্রির সমতুল্য হবে বলেও আইনে বলা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদেরও লিগ্যাল এইডের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার, আহত, পঙ্গু, সর্বস্ব হারানো এবং মামলা-হামলার শিকার ব্যক্তিরাও এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার নারী, যারা অর্থনৈতিক কারণে আদালত বা পুলিশের কাছে যেতে পারেন না, তারাও লিগ্যাল এইড সুবিধার আওতায় থাকবেন।
আয়োজকরা জানান, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত চারটি ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে বস্তির বিভিন্ন এলাকায় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। প্রতিটি গাড়িতে একজন করে আইনজীবী থাকবেন। তারা আইনি জটিলতায় পড়লে কোথায় যেতে হবে এবং কীভাবে সহায়তা পাওয়া যাবে- সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেবেন।