প্রিন্ট এর তারিখঃ May 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 30, 2026 ইং
বাংলাদেশ শেয়ার বাজারে এক লাখ কোটি টাকার লুটপাট: রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে গত ১৫ বছরে এক লাখ কোটি টাকার উপরে লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ছিল, যা একটি বিশেষ গোষ্ঠী লুটে নিয়েছে। এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল’ পাসের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধস নামে, যার ফলে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব হারিয়েছেন। তিনি শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, গত ১৫ বছরে এই খাত থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুট হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি সংকটে এবং পুঁজিবাজারের ওপর মানুষের আস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারকে আস্থার জায়গায় ফেরাতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রুমিন ফারহানা যে বক্তব্য রেখেছেন, আমি তার প্রতিটি কথার সঙ্গে একমত। শেয়ার বাজারে অতীতে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা দূর করতেই আমরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে যখন আইনটি করা হয়, তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। বর্তমানে তা বেড়ে ৭২ বছরে দাঁড়িয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর জন্যই এই সংশোধন প্রয়োজন।তিনি বলেন ,বর্তমান সরকার পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের আকৃষ্ট করতে আমরা কাজ করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে যেমন শেয়ার বাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও তা থাকবে না। যারা লুটপাট করেছে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭