প্রিন্ট এর তারিখঃ May 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 3, 2026 ইং
যাত্রাবাড়ীতে গুলি সরবরাহের কথা ট্রাইব্যুনালে জানালেন পুলিশ কনস্টেবল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্রাগার থেকে চায়না রাইফেলের গুলি ও সিসা গুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন পুলিশের বেতার কনস্টেবল নাহিদ মিয়া।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১২তম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দি দেন।
নাহিদ মিয়া গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে যাত্রাবাড়ী থানায় বেতার অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। জবানবন্দিতে তিনি ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের কয়েকটি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় তৎকালীন এসি ডেমরা জোন নাহিদ ফেরদৌস ওয়্যারলেসে সিসা গুলি চান। বিষয়টি তৎকালীন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হাসানকে জানালে লোকবল না থাকায় তাকেই গুলি নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে তিনি থানার সামনে থেকে ২০০টি সিসা গুলি এসি নাহিদ ফেরদৌসের কাছে পৌঁছে দেন। পরদিন ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী মাছবাজার-সংলগ্ন আউটগোয়িং ফ্লাইওভারে দায়িত্বে থাকা পার্টি কমান্ডার ব্রাভো ট্যাংগো-২৮২ চায়না রাইফেলের গুলি চান। একই সময় মাছবাজার-সংলগ্ন ইনকামিং ফ্লাইওভারে দায়িত্বে থাকা যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর তদন্ত জাকিরও চায়না রাইফেলের গুলি চান।
তিনি জানান, বিষয়টি ওসিকে জানালে অস্ত্রাগার থেকে গুলি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অস্ত্রাগার থেকে ৪০০টি গুলি নিয়ে এর মধ্যে ৩০০টি পার্টি কমান্ডার ব্রাভো ট্যাংগো-২৮২ এবং ১০০টি ইন্সপেক্টর তদন্ত জাকিরের কাছে পৌঁছে দেন তিনি।
গুলি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ওয়্যারলেসে পার্টি কমান্ডারদের কাছ থেকে অশোভন কথাবার্তার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নাহিদ মিয়া।
তিনি আরও বলেন, পরে ২০ জুলাই কানাঘুষায় জানতে পারেন, ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ইন্সপেক্টর তদন্ত জাকির একজনকে গুলি করে হত্যা করেছেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে সেই ঘটনার ভিডিও দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ওই ভিডিওতে জাকিরকে গুলি করতে দেখা যায় বলে জানান নাহিদ মিয়া। নিহত ওই তরুণের নাম ইমাম হাসান তাইম।
গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ইমাম হাসান তাইম রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জন পলাতক এবং দুইজন কারাগারে আছেন। কারাগারে থাকা দুই আসামি যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলীকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭