প্রিন্ট এর তারিখঃ May 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 4, 2026 ইং
শাপলা চত্বর ঘটনায় ৩২ জন হত্যার প্রমাণ পেয়েছে আইসিটি তদন্ত সংস্থা

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ এবং র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১২ জন ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম।
শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তের কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব আসামির নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না বলেও জানান তিনি।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় হতাহতদের নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার একটি সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে অন্তত ৬১ জন নিহতের তথ্য দেওয়া হয়। সেখানে ঘটনাটিকে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অধিকারের প্রতিবেদনের পর দেশ-বিদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সংগঠনটির সম্পাদক আদিলুর রহমান খান এবং পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তারা কারাবরণও করেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ ২৪৭